FANDOM


২৫ মার্চের আগে ঢাকা থেকে সব বিদেশী সাংবাদিককে বের করে দেয়া হয়। সে রাতে পাকিস্তান বাহিনী শুরু করে অপারেশন সার্চলাইট নামের হত্যাযজ্ঞ। যদিও এই হত্যাযজ্ঞের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা, বাঙ্গালী হত্যা পুরো দেশজুড়ে চালানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলো গুলো ছিল তাদের বিশেষ লক্ষ। একমাত্র হিন্দু আবাসিক হল - জগন্নাথ হল পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এতে ৬০০ থেকে ৭০০ আবাসিক ছাত্র নিহত হয়। যদিও পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন ধরনের ঠান্ডা মাথার হত্যাকান্ডের কথা অস্বীকার করেছে তবে হামিদুর রহমান কমিশনের মতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ব্যাপক ধরনের শক্তি প্রয়োগ করেছিলো। জগন্নাথ হল এবং অন্যান্য ছাত্র হল গুলোতে পাকিস্তানীদের হত্যাযজ্ঞের চিত্র ভিডিওটেপে ধারণ করেন তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তান ইন্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটির প্রফেসর নূর উল্লাহ।

পুরো বাংলাদেশেই হিন্দু এলাকাগুলো বিশেষ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মধ্যরাতের আগেই, ঢাকা পুরোপুরি জ্বলছিল, বিশেষভাবে পূর্ব দিকের হিন্দু প্রধান এলাকাগুলো। ২রা আগস্ট, ১৯৭১ টাইম সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, "হিন্দু,যারা মোট রিফিউজিদের ৩ চতুর্থাংশ , পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর ক্রোধ ও আক্রোশ বহন করছিল"।

গণহত্যার লক্ষ্যবস্তুEdit

দ্য রেইপ অফ বাংলাদেশ গ্রন্থের লেখক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তার এই বইয়ের গণহত্যা নামক অধ্যায়ে এই রাতে পাকিস্তান বাহিনী মূলত যাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে তাদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। তিনি মূলত ৫টি লক্ষ্যবস্তুর উল্লেখ করেছেন। মৃতের পরিসংখ্যান দেখলে এই লক্ষ্যবস্তুগুলোর অভ্রান্ততা প্রতীয়মান হয়। লক্ষ্য ছিলেন যারা:

আমরা কেবল হিন্দু পুরুষদের হত্যা করছি, হিন্দু নারী ও শিশুদেরকে ছেড়ে দিচ্ছি। আমরা সৈনিক, নারী শিশুদেরকে হত্যা করার মত কাপুরুষ আমরা নই।

  • আওয়ামী লীগের লোক। এই দলের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে নিম্নতম পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের লোক, বিশেষ করে এই দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকগণ।
  • ছাত্র - কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তরুণদের দল ও কিছু সংখ্যক ছাত্রী। যারা ছিলেন অধিকতর সংগ্রামী মনোভাবাপন্ন।
  • অধ্যাপক ও শিক্ষকদের মত বাঙালি বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়। যারা সংগ্রামী বলে সেনাবাহিনী কর্তৃক সর্বদা নিন্দিত হতেন।

হতাহতের সংখ্যাEdit

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেEdit

সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে এই গণহত্যা পৃথিবীর বর্বরতার ইতিহাসে একটি অনন্য সংযোজন। তথাপি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করলে দেখা যায়, এটি ছিল অতি দুর্বল ও মূলত আত্মঘাতী একটি পরিকল্পনা। এই আক্রমণের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারের লক্ষ্য ছিল, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে অতি স্বল্প সময়ে সেখানে তাদের আনুগত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু ঢাকার ভিতরে নির্বিচার হত্যকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকার বাইরে ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয় যার পরিণতি ছিল নিশ্চিত বিদ্রোহ।