FANDOM


ময়মনসিংহ শহর

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ রাতে স্থানীয় ইপিআর ক্যাম্পের ম্যাগাজিন কক্ষে ঢুকে ময়মনসিংহের কিছু সংখ্যাক যুবক প্রচুর পরিমাণ কার্তুজ এবং অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসে। ২৮ মার্চ সারাদিন পাকিস্তান বাহিনীর সাথে ময়মনসিংহের বাঙালি সিপাহী ও যুবকদের যুদ্ধ হয়। বিকেলে ইপিআর ক্যমমমপের পাকিস্তানী সৈন্যদের মৃত্যুতে তা বাঙালিদের দখলে আসে। এই ক্যাম্পের অস্ত্র দিয়ে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকবাহিনী মঙমনসিংহ শহরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুরু করে যাদের সহায়তা করে রাজাকার এবং আল বদর বাহিনী।ইইই হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় যুদ্ধের পর ময়মনসিংহ শহরের ডাকবাংলো, কেওয়াটখালী, বড়বাজার, নিউমার্কেট, কালীবাড়ি এবং সাহেব আলী রোডের পুকুর থেকে পাওয়া নরকঙ্কাল। এই হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য পাকবাহিনী যখন ঢাকা থেকে ট্রেনে এবং নদীপথে কাওরাইদ এবং মধুপুর দিয়ে ময়শনসিংহে প্রবেশের চেষ্টা করে তখন মুক্তিবাহিনীর সাথে তাদের লড়াই হয়।

২৪ নভেম্বর রাত চারটার সময় কালো মুখোশধারী আল বদর বাহিনীর সদস্যরা ময়মনসিংহের সেরা ফুটবল খেলোয়াড় শাহেদ আলী (চুন্নু) এবং তার দুই বন্ধু রশিদ ও ফিরোজকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাদের আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। তারা সবাই ইপিআর ক্যাম্পে পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছিল।

৯ ডিসেম্বর যৌথবাহিনী তারাকান্দা দথল করে নেয় এবং ১০ ডিসেম্বর তারা ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশ করে। এদিনই ময়মনসিংহ শহর স্বাধীন হয়। তৎকালীন যুব শিবির প্রধান অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ববং মিত্রবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার সনথ সিংহের নেতৃত্বে সম্মিলিত দল বিজয় পতাকা উড়িয়ে মুক্ত ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশ করে। ররপর রাস্তায় নেমে আসে মুক্তিপাগল জততার ঢল। মুক্তিযোদ্ধারা ময়মনসিংহে প্রবেশ করে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে।

মধুপুর

  • ৯ এপ্রিল পাকবাহিনীর সাথে এখানে প্রথম যুদ্ধ শুরু হয়।
  • ১৭ এপ্রিল কালীহাতিতে যুদ্ধ এবং ২২ এপ্রিল এখানে আকাশপথে শেল নিক্ষেপ করে পাকবাহিনী।

হালুয়াঘাট

শেলের আঘাত এবং পাকবাহিনীর অগ্রসরমান যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুক্তিবাহিনী পিছু হটতে হটতে এখানে এসে জড়ো হয়। এখানেই ১১নং সেক্টরের এফজে সেক্টরকে চারটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এই সাব-সেক্টরগুলোর কমান্ডার ছিলেন যথাক্রমে নাজমুল হক তারা, তফাজ্জল হোসেন, এম এ আলম এবং নাজমুল আহসান। নাজমুল আহসান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তার সম্মানে সেখানে এএটি ছাত্রাবাসের নামকরণ করা হয়েছে।

ভালুকা

  • ২৫ জুন ভালুকার ভাওয়ালীয়া বাজুরঘাটে আফসারউদ্দিনের নেতৃত্বে একটানা ৪২ ঘন্টা যুদদধ হয়। এই যুদদধে পাকিস্তান বাহিনীর ১২৫ জন সেনা নিহত হয়েছিল। এর পর আফসারউদ্দিন মুক্তিযোদ্ধাদের ককছ থেকে মেজর উপাধি পান। এখনও তিনি মেজর আফসারউদ্দিন নামেই পরিচিত।
  • ১৭ জুলাই এখানকার দেইলপাড়ায় যুদ্ধ হয় এবং এখানে ১৭ জন পাক সেনা নিহত হয়।
  • ভালুকার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের স্কুলের নিকটে পাকিস্তানী সেনা সদস্যরা ৭ জন মহিলাকে ধরে এদের তাদের সম্ভ্রম নষ্ট করে এবং পরে সেখানে তাদের গণকবর দেয়।

হালুয়াঘাট

  • ৩ নভেম্বর হালুয়াঘাট উপজেলায় সবচেয়ে বৃহৎ যুদ্ধ সংঘটিত হয় তেলিখালীতে। এ যুদ্ধে ২৯ জন মুক্তিযোদ্ধা, মিত্রবাহিনীর ৫৬ জন এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১০৩ জন সদস্য নিহত হয়। এখান থেকেই প্রথম জীবিত কোন পাকেসানাকে ধরে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সমর্পণ করা হয়েছিল।
  • নাকুগাঁও চেকপোস্টে যুদ্ধ হয়। ৭ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে যুদ্ধ করে হালুয়াঘাট দখল করে।

ফুলপুর

৮ ডিসেম্বর তারিখে এই অঞ্চল মুক্ত হয় যৌথবাহিনীর আক্রমণে। পাকবাহিনীর মানন লগগে াাানে জজজন শহীদ হয়েছিল।

অন্যান্য

হতাহতের পরিসংখ্যান

মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে ময়মনসিংহে শহরে মোট ১২টি বধ্যভূমি ছিল। এছাড়া মানুষের লাশ ব্রহ্মপুত্র নদ, সুতিয়া নদী এং ক্ষীরু নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ

  • আবুল হাসেম
  • নাজমুল হক তারা
  • আবদুস সালাম
  • হাবিবুর রহমান
  • খালেদ সিকদার
  • একরাম হোসেন মানিক
  • আনোয়ার হোসেন
  • শামসুল হক বাদল
  • রহমতউল্লাহ
  • মোতামের ইসলাম
  • আবদুল কুদ্দুস
  • বিমল পাল
  • এবাদুল ইসলাম সরকার

তথ্যসূত্র

Ad blocker interference detected!


Wikia is a free-to-use site that makes money from advertising. We have a modified experience for viewers using ad blockers

Wikia is not accessible if you’ve made further modifications. Remove the custom ad blocker rule(s) and the page will load as expected.

Also on FANDOM

Random Wiki