FANDOM


আবদুল্লাহ-আল-ফারুক বাংলাদেশের একজন মিডিয়াকর্মী। তিনি বাংলাদেশ বেতারের সহকারী আঞ্চলিক পরিচালক এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের একজন শব্দ সৈনিক।

প্রারম্ভিক জীবনEdit

ফারুক ১৯৭০ সালে এম. এ. পাশ করে রেডিও পাকিস্তান চট্টগ্রামে অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন। একই বছরের অক্টোবরে তিনি সিএসএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশমত তিনি চট্টগ্রাম বেতারের অনুষ্ঠান প্রচার করতে থাকেন। সে সময় রেডিও পাকিস্তান বলার বদলে চট্টগ্রাম বেতার বলা হত। বেতার অফিসের দাপ্তরিকসহ সকল কাজ বাংলায় করা হতে থাকে। অসহযোগ চলাকালে ফারুকসহ চট্টগ্রাম বেতারের অন্যান্য কর্মীরা সংগ্রাম কমিটি গঠন করেন এবং কমিটি থেকে কাজের মাধ্যম হিসেবে বাংলাকে চালু করার সিদ্ধান্ত নেন। ২৫ মার্চের আগেই তারা কমিটির পক্ষ থেকে তাদের করণীয় ঠিক করে রাখেন।

২৫ তারিখ রাতে বাড়িতে ফেরার সময় ফারুক রাস্তার সকল বাতি নিভে যেতে দেখেন। পাক বাহিনীর মিলিটারী কনভয় বন্দর থেকে আগ্রাবাদ হয়ে ক্যাণ্টনমেণ্টের দিকে যাচ্ছিল এবং স্থানীয় লোকদের ভয় দেখিয়ে রাস্তার ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলছিল। সে রাতে তিনি বেঙ্গল রেজিমেণ্টের অনেক বাঙালি সৈনিককে ক্যাণ্টনমেণ্ট থেকে বন্দরের দিকে যেতে দেখেন। মাঝরাতে তিনি মাইকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা শুনতে পান। পরদিনে বেতার অফিসে গিয়ে তিনি সিনিয়র অফিসারদের কাউকে না পেয়েও সিদ্ধান্ত নেন যে চট্টগ্রাম বেতার বন্ধ থাকবে। ফারুক প্রকৌশলীদের অনুরোধ করেন, পাকিস্তানীরা বেতার দখল করলেও যাতে সহজে তা ব্যবহার করতে না পারে তার ব্যবস্থা করার।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রEdit

২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের কর্মকর্তারা রেডিও চালুর সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য ফারুক ও তাঁর সহকর্মী বেলাল, সন্দ্বীপ ও হোসনে আরা বেতার ভবন থেকে দু-তিনটি টেপ নিয়ে পিক আপে করে রেডিও চালু করার জন্য কালুরঘাটে যান। সেদিনই সেখানে চালু করেন “স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র”। ২৭ মার্চ তাদের সাথে আরো কিছু সহযোগী যোগ দেন। ২৭ তারিখের পর তারা সিদ্ধান্ত নেন, অনুষ্ঠান শেষে শহরে না গিয়ে তারা ট্রান্সমিটারের কাছের কোন জায়গায থাকবেন। ফারুকের উপর অনুষ্ঠান ঘোষণার দায়িত্ব দেয়া হয়। ৩০ তারিখে কেন্দ্রের উপর বিমান হামলার পর তারা মূল ভবনের ভিতরেই অবস্থান করছিলেন। ৩১‌ মার্চ এক কিলোওয়াটের ট্রান্সমিটারটি গাড়িতে করে স্থানান্তর করা হয়, সিদ্ধান্ত হয় ট্রান্সমিটারটি সীমান্তের নিকটবর্তী স্থানে স্থাপন করা হবে যাতে আকাশবাণী তাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে সম্প্রচার করতে পারে। এজন্য তিনি তার সতীর্থদের নিয়ে ৩ এপ্রিল সীমান্ত সংলগ্ন রামগড় এলাকায় পৌছান। সেখানে সহকর্মী তারা একটি শর্টওয়েভ ট্রান্সমিটার চালু করেন এবং বেলাল, সন্দ্বীপ, মুস্তাফা আনোয়ার ও শারফুজ্জামানকে নিয়ে ফারুক এই ট্রান্সমিটারের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। এই কেন্দ্র থেকে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করার এক পর্যায়ে তারা আরো শক্তিশালী একটি ট্রান্সমিটার যুক্ত করেন। এই কেন্দ্র থেকে ইংরেজিতে প্রচারিত অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট লেখার দায়িত্ব পালন করার সাথে ফারুক ইংরেজিতে সংবাদ পাঠ ও টক শো উপস্থাপনা করতেন।

মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থানান্তরিত হবার পর ফারুকের উপর ইংরেজি সংবাদ তৈরি ও খবর প্রচারের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি সহকর্মী পারভিন হোসেন ও জরিন আহমেদের সাথে "ইফতেখার আহমেদ" ছদ্মনামে সংবাদ পাঠ করতেন।

১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে ফারুক মুজিবনগর সরকারের মিনিস্ট্রি অফ ইনফরমেশন থেকে প্রস্তাব পেয়ে ৬ নম্বর সেক্টরে যান। রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলজুড়ে গঠিত এ সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল রংপুরের বুড়িমারীতে। ফারুক সেখানে থেকে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধ দেখেন ও টেলিফোনে কলকাতায় প্রতিবেদন পেশ করতেন। ঠাকুরগাঁও এলাকা মুক্ত হলে তিনি আবার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ফিরে আসেন।

এর মাঝে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। এ সময় তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির ভাষণ ইংরেজিতে অনুবাদ করে প্রচার করতেন। দেশ স্বাধীন হবার পর ২২ ডিসেম্বর তিনি মন্ত্রিপরিষদের সাথে দেশে ফিরে আসেন।

Ad blocker interference detected!


Wikia is a free-to-use site that makes money from advertising. We have a modified experience for viewers using ad blockers

Wikia is not accessible if you’ve made further modifications. Remove the custom ad blocker rule(s) and the page will load as expected.

Also on FANDOM

Random Wiki