FANDOM


আনোয়ারুল আজিম বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি গোপালপুর সুগার মিলের এ্যাডমিনিস্ট্রেটর ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলন ঘোষিত হবার পর তিনি এলাকার মানুষদের সাথে আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এ সময় গোপালপুর সুগার মিলে চিনি উতপাদন বন্ধ রাখা হয়। ২৯ মার্চ পর্যন্ত গোপালপুর শত্রুমুক্ত থাকলেও ৩০ মার্চ সকালে হানাদার বাহিনী মিলের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে মিলে আসার রাস্তার উপর ব্যারিকেড রেলগাড়ির ইঞ্জিন দিয়ে ব্যারিকেড দেয়। পাক আর্মি ব্যারিকেডের পিছনে থেমে ভারি গোলাবর্ষণ করতে থাকে। বিপরীত পাশ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা বন্দুক থেকে গুলি ছোড়ে। সে সময়ের মত পাক বাহিনী কিছু আহত সৈনিক নিয়ে পিছু হটে। আজিম সতর্কতা হিসেবে তার মিলের হিন্দু শ্রমিকদের মিল ছেড়ে চলে যেতে বলেন এবং নিজেরা মিল থেকে আধা-মাইল দুরবর্তী নরেন্দ্রপুর ফার্মে আসেন। সেখানে তারা ১০-১২ দিন থাকেন।

এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে আনোয়ারুল আজিম শুনতে পান যে কদিন আগে পাক বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর মধ্যে মুলাডোলে একটি খণ্ডযুদ্ধ হয়। সে যুদ্ধে আটক এক পাকিস্তানী মেজর আর দুই সৈন্যের লাশ মিলে ফেলা হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এই খবর পেয়ে আজিম সীমান্ত অতিক্রম করে ভারত চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তার সহকর্মী তাকে থাকতে অনুরোধ করলে তিনি কৃষ্ণা ফার্ম নামক স্থানে অবস্থান নেন। সেখানে এক সপ্তাহ থাকার পর স্থানীয় শ্রমিক ও আখচাষীরা আজিমকে এসে খবর দেন যে, এখন মিল চালু করা নিরাপদ। পাকিস্তানী বাহিনী এই অবস্থায় আনোয়ারুল আজিমকে বন্দী করে মিল চালু করার হুকুম দেয়। আজিম সিদ্ধান্ত নেন যে মিল চালু না করার। এ সময় মিলের বিহারী শ্রমিকরা বাঙালিদের ঘিরে রাখত এবং তাদের বাড়ি হামলা করে অর্থ সম্পদ নিয়ে যেত। আজিম তার বাঙালি সহকর্মীদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি ৫ মে মিল বন্ধ ঘোষণা করে সবাই ঢাকা চলে যাবেন। ৫ মে সকালে মিল এলাকার পুকুর পাড়ে ব্রাশ ফায়ার করে তাকে হত্যা করা হয়। তার স্ত্রী-সন্তানসহ পালাতে সমর্থ হয়।

Ad blocker interference detected!


Wikia is a free-to-use site that makes money from advertising. We have a modified experience for viewers using ad blockers

Wikia is not accessible if you’ve made further modifications. Remove the custom ad blocker rule(s) and the page will load as expected.

Also on FANDOM

Random Wiki