FANDOM


মোহাম্মদ আইয়ুব খান পাকিস্তানের তৃতীয় সেনা প্রধান এবং দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট। ১৪ই মে, ১৯০৭ এ আইয়ুব খান হরিপুরে এক পশতুন গোত্রে জন্মগ্রহণ করে। আইয়ুবের পিতা মীর দাদ খান বৃটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক অশ্বারোহী রেজিমেন্টের রিসালদার মেজর ছিলেন। আইয়ুব আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও রাজকীয় সেনা একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট এ সুযোগ পেয়ে যায়, এবং লেখাপড়া শেষ না করেই স্যান্ডহার্স্টে যোগ দেয়। কৃতিত্বের কারণে তাকে অফিসার হিসেবে ১৪ পাঞ্জাব রেজিমেন্টে নিয়োগ দেয়া হয়।

ইংরেজদের দখল থেকে স্বাধীনতার পর নবগঠিত পাকিস্তান আর্মিতে আইয়ুব খান উচ্চপদে যোগ দেয়। ১৯৪৮-৪৯ এ আইয়ুব খান তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে একমাত্র ডিভিশনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে, এবং হেলাল-ই-জুরাত খেতাব নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল হিসেবে ফিরে আসে।

১৯৫১ সালের ১৭ জানুয়ারি আইয়ুব খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়। ১৯৫৪ সালে বগুড়ার মোহাম্মদ আলির মন্ত্রীসভায় আইয়ুব প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। ৭ অক্টোবর ১৯৫৮ ইস্কান্দর মির্জা মার্শাল ল' জারি করলে আইয়ুব খান প্রধান সেনা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পায়। ২৭শে অক্টোবর ১৯৫৮ ইস্কান্দর মির্জাকে বিনা রক্তপাতে উৎখাত করে আইয়ুব ক্ষমতা দখল করে।

ক্ষমতায় বসে আইয়ুব স্বপ্রণীত একটি "গণতান্ত্রিক" পদ্ধতি চালু করে, এবং নিজের ক্ষমতা আরো পোক্ত করে। ১৯৬৩ সালে ফাতিমা জিন্নাহর সাথে প্রতিদ্বদ্বিতা করে ৬১% ভোটে জিতে আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়।

ক্ষমতা গ্রহণের পর আইয়ুব খান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করে, এবং সোভিয়েত ইউনিয়নবিরোধী ভূমিকা গ্রহণ করে। ১৯৬০ সালে ভারতের সাথে সিন্ধুনদের পানিবন্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় আইয়ুব সরকারের তত্ত্বাবধানে। পরবর্তীতে আইয়ুব চীনের সাথেও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করে। ভারতের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক মূলত অবনত হয়, এবং ১৯৬৫ সালে ইন্দো-পাক যুদ্ধ হয় গুজরাটের কচ্ছের রান সীমান্ত নিয়ে। এ যুদ্ধ তাসখন্দ ঘোষণার মধ্য দিয়ে নিষ্পন্ন হয়। যুদ্ধের পরিণতি পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলে বিরূপ প্রভাব ফেলে, এবং জুলফিকার আলি ভূট্টো পশ্চিম পাকিস্তানে আইয়ুবের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবিভূর্ত হয়। পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্বশাসনের তীব্র দাবি উত্থাপিত হয় শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

২৫ মার্চ ১৯৬৯ আইয়ুব খান গণদাবীর মুখে তদানীন্তন সেনাপ্রধান ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হয়।

১৯ এপ্রিল ১৯৭৪ এ আইয়ুব খান মৃত্যুবরণ করে। তার বিরুদ্ধে স্বৈরাচার, জনগণের অধিকার লুণ্ঠন ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আইয়ুব খানের পুত্র গওহর আইয়ুব নওয়াজ শরীফ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নাতি ওমর আইয়ু্ব মোশাররফ সরকারের অর্থমন্ত্রী।



সূত্র: উইকিপিডিয়া।

Ad blocker interference detected!


Wikia is a free-to-use site that makes money from advertising. We have a modified experience for viewers using ad blockers

Wikia is not accessible if you’ve made further modifications. Remove the custom ad blocker rule(s) and the page will load as expected.

Also on FANDOM

Random Wiki